মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক,
বাংলাদেশে সরকারি দপ্তরগুলোকে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের বাইরে আনতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে সরকার। সচিবালয় থেকেই এ উদ্যোগের সূচনা হয়েছে, যা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সম্পূর্ণ প্লাস্টিকমুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
রোববার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে সচিবালয় হবে প্রথম উদাহরণ। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যেই পানির বোতলসহ সব ধরনের সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, দেশে এখনো একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করার কোনো আইন প্রণয়ন হয়নি, তবে সরকার নীতিগতভাবে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি দূতাবাস ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নিজেদের প্লাস্টিকমুক্ত ঘোষণা দিয়েছে, যা দেশের পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এর আগে সকালে সচিবালয়ের ২ ও ৫ নম্বর প্রবেশপথে মনিটরিং কার্যক্রম পরিদর্শন করেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ।
এই সময়ে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্লাস্টিক ব্যাগ ও ফাইল সংগ্রহ করে তাদের হাতে কাপড়ের বিকল্প ব্যাগ তুলে দেওয়া হয়
এছাড়া সচিব সচিবালয়ের ভেতরে স্থাপন করা সচেতনতামূলক পোস্টার, বোর্ড ও স্ট্যান্ডি পরিদর্শন করেন এবং পর্যটন করপোরেশনের ক্যাফেটেরিয়া ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্যান্টিনে গিয়ে প্লাস্টিক ব্যবহারবিরোধী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
পাশাপাশি সচিবালয়ের প্রতিটি প্রবেশপথে পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক তল্লাশি চালাচ্ছেন, যাতে কেউ একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বহন করতে না পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি পর্যায়ে প্লাস্টিক বর্জন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দেশের পরিবেশবান্ধব প্রশাসনিক কাঠামোর দিকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।
এই উদ্যোগ সফল হলে ধীরে ধীরে সকল সরকারি অফিস ও সংস্থা প্লাস্টিকমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন,
“আমরা চাই সচিবালয় হোক পরিবেশবান্ধব অফিস ব্যবস্থাপনার একটি মডেল। এখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও যেন প্লাস্টিকমুক্ত উদ্যোগ নেয়।”